বিশ্বব্যাপী সম্পদ বণ্টনে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। ইউরোপেও একই প্রবণতা বিদ্যমান। এখানে বিশ্বের মোট বিলিয়নেয়ারদের এক-পঞ্চমাংশের বেশি বাস করেন। সম্পদ গবেষণা সংস্থা ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুসারে, এ মহাদেশে সম্পদ শ্রেণীর ওপরের দিকে থাকা ১ শতাংশের হাতে রয়েছে মোট সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ। খবর ইউরো নিউজ।
বিশ্বের ৩ হাজার ২৮ বিলিয়নেয়ারের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ইউরোপীয় দেশগুলোর নাগরিক। এখনকার প্রায় সব দেশে জনসংখ্যার সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশের হাতে রয়েছে মোট সম্পদের কমপক্ষে ২০ শতাংশ এবং অনেক ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশের বেশি।
ফোর্বসের সাম্প্রতিক তালিকায় দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক সম্পদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের ধনীরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশ্বের মোট বিলিয়নেয়ার ও তাদের সম্মিলিত সম্পদের অর্ধেকের বেশি ধরে রেখেছে এ তিন দেশ।
ইউরোপের হাতেগোনা কয়েকটি দেশেই বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। শীর্ষ তিনে রয়েছে জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য।
ফোর্বসের তালিকা অনুসারে জার্মানিতে মোট ১৭১ ধনকুবেরের বসবাস। দেশটিতে বিলিয়নেয়ারদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৬৭৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৬৭ হাজার ৬৪০ কোটি ইউরো। দেশটির শীর্ষ ধনী হলেন সুপারমার্কেট চেইন জায়ান্ট ডিটার শোয়ার্জ।
ইতালিতে মোট ৭৪ জন বিলিয়নেয়ার রয়েছেন। তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ২৮ হাজার ৯০০ কোটি ইউরো। ইতালির সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হলেন জিওভান্নি ফেরেরো। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চকোলেট ও মিষ্টান্ন কোম্পানি ফেরেরো গ্রুপের কর্ণধার তিনি।
ইউরোপে তৃতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক বিলিয়নেয়ারের আবাসস্থল যুক্তরাজ্য। দেশটিতে এখন মোট ধনকুবের ৫৫ জন এবং তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ২০ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো। যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি মাইকেল প্ল্যাট। মূলত শিক্ষা খাত নিয়ে কাজ করেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুসারে ইউরোপে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যায় জার্মানি শীর্ষে থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পদের দিক থেকে ফ্রান্সের ধনকুবেররা বিশ্বে আলোচিত। ফ্রান্সে মোট বিলিয়নেয়ার আছেন ৫২ জন। দেশটির সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিশ্বের শীর্ষ বিলাসবহুল ব্র্যান্ড গ্রুপ এলভিএমএইচের প্রধান বেহনা আহনোঁ। এককভাবে ১৫ হাজার ২০০ কোটি ইউরো সম্পদ নিয়ে বিশ্বের পঞ্চম ধনী ব্যক্তি তিনি।
অন্যদিকে জার্মানির শীর্ষ ধনী ডিটার শোয়ার্জের সম্পদ ৩ হাজার ৫০০ কোটি ইউরো। বৈশ্বিক বিলিয়নেয়ার র্যাকিংয়ে ৩৭তম স্থানে আছেন তিনি। ইতালির শীর্ষ ধনকুবের জিওভান্নি ফেরেরোর সম্পদ ৩ হাজার ২৬০ কোটি ইউরো।
জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—ইউরোপের এ চার দেশেই অর্ধশতাধিক করে বিলিয়নেয়ার রয়েছেন। দেশগুলোর পরই রয়েছে সুইডেন (৪৫ জন) ও সুইজারল্যান্ড (৪২ জন)।
এছাড়া ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি স্পেনে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৩৪। স্পেনের শীর্ষ ধনী আমানসিও ওর্তেগার সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো। বৈশ্বিক বিলিয়নেয়ার র্যাকিংয়ে তার অবস্থান নবম। তুরস্কে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৩২। এর পরের দেশগুলোর মধ্যে নরওয়েতে ১৭, গ্রিসে ১৬ ও নেদারল্যান্ডসে ১৩ জন বিলিয়নেয়ারের বসবাস।
ফোর্বসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যার দিক থেকে পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলোরই আধিপত্য বেশি। জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সুইডেন এ পাঁচ দেশেই ইউরোপের মোট ধনকুবেরের ৬১ শতাংশের বসবাস।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, কোনো দেশের অর্থনীতির আকার বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা নির্ধারণে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। শীর্ষ চারটি দেশ ইউরোপের বৃহত্তম পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত। তবে জিডিপি ও বিলিয়নেয়ারের সংখ্যার র্যাকিং সবসময় হুবহু মেলে না। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম প্রধান আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।